হাল হাউজ, জেন এ্যাডামস, ১৮৬০-১৯৩৫

  • 08 September, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 65 view(s)
  • লিখেছেন : অমর্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়
 আমরা কেবল দেখতে চেষ্টা করি সেই মানুষকে, যিনি তাঁর প্রথম বইয়ের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও সামাজিক নীতিবোধকে। বলেছিলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি তত্ত্বমাত্র নয়, গণতন্ত্র আদতে এক যাপনপদ্ধতি। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে স্রেফ এইটুকুর জন্যই বোধহয় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি মানুষকে মানুষ হতে শিখিয়েছিলেন, নারীকে দিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাস, আর শাশ্বত শান্তির বাণীতে উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলেন মনুষ্যত্ব। জন্মমাসে আমরা সেই জেন এ্যাডামসকেই স্মরণ করতে চেয়েছিলাম।

১১ই নভেম্বর, ১৯১৮ সাল। সবেমাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা হয়েছে। জুরিখে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শান্তি ও মুক্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহিলা সংগঠন, উইমেনস ইন্টারন্যাশনাল লিগ ফর পিস এ্যাণ্ড ফ্রিডমের সম্মেলন। তার কিছু আগেই আমরা দেখতে পাব যুদ্ধদীর্ণ ইউরোপের বিধ্বস্ত একেকটি শহরের মধ্য দিয়ে বৃষ্টি, কাদা, অপরিচ্ছন্ন পথঘাট, ভাঙাচোরা বাড়িঘর এই সবকিছুকে উপেক্ষা করেই হেঁটে চলেছেন দুইজন মানুষ, দুইজন মহিলা। একজনের বয়স ষাট ছুঁতে চলেছে। অপরজনের বয়সও পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। বয়স্কজন যিনি, তিনিই এই সমস্ত শহরের ধ্বংসস্তুপের ভিতরে হাতড়িয়ে খুঁজে চলেছেন তাঁরই পরবর্তী প্রজন্মের এক আত্মীয়ের শেষ চিহ্নটুকু। যুদ্ধবিরতির মাত্র একমাস আগেই গোলার আঘাতে থেমে গিয়েছে ক্যাপ্টেন জন লিনের জীবন। তারই কবর খুঁজে চলেছেন পূর্ববর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি জেন এ্যাডামস। যুদ্ধ মানুষকে ঠিক এইখানেই এনে দাঁড় করায়।

 

আমরা জীবনী পড়ি কেন? কারণ আমরা একেকটি জীবনের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর চিরকালীন যে সমস্ত সমস্যা, সেগুলির সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করি। বুঝতে চেষ্টা করি, কেমন ভাবে মহীয়সী একেকজন তাঁদের সময়ে তাঁদের মতো করে সেই সমস্যাগুলির সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের সময়ে কতখানিই বা অন্যরকম ছিল সমাজ, কতটাই বা বিরুদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের? এইসব প্রশ্নের উত্তর থেকেই আমরা নিজেদেরকে তৈরি করতে চেষ্টা করি। নিজেদের মনের ভিতরেই গড়ে তুলতে চেষ্টা করি আত্মবিশ্বাস। নিজেদেরকে বোঝাতে চাই, মানুষ সব পারে! মেয়েরাও সেই অনেক যুগ আগেই আকাশ ছুঁয়ে দেখিয়েছে।

 

জেন এ্যাডামস, জন্ম সেপ্টেম্বর ১৮৬০, আমেরিকার ইলিনয় প্রদেশে। অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে খুব কাজ থেকে দেখেছেন ক্ষমতার অলিন্দকে। বড় হয়ে উঠেছেন স্বচ্ছল পরিবেশেই। কিন্তু সেই স্বচ্ছলতাতেও মেয়েদের অবস্থান ঠিক কেমনটা ছিল, তাঁর ছোটবেলার বিষয়ে বিশেষ একটি তথ্য জানলে পরেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠতম। জেনের বয়স যখন আট, তারই মধ্যে তাঁর বড় চার ভাইবোনের মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে তাঁর যখন তিনবছরও বয়স হয়নি, জেনের মা আরেক সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে প্রয়াত হন। মেয়েদের জন্য এ এক চরম অস্বাস্থ্যকর অবস্থা। অথচ জেনের বাবা ছিলেন প্রতিষ্ঠিত নাগরিক, সমাজকর্মী ও আটবারের সেনেটর। একসূত্রে তিনি ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কনের বিশেষ বন্ধুও বটে। তাঁর বাবার টেবিলে, আব্রাহাম লিঙ্কনের লেখা একটি চিঠি সবসময় রাখা থাকত। নিজের আত্মজীবনীতে জেন এই চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। বাবার কারণেই বিভিন্ন ধরনের বই পড়া, সমাজ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠার পাঠ শুরু হয় তাঁর। চার্লস ডিকেন্স, থমাস কার্লাইল, জন রাস্কিন, লিও তলস্তয় প্রমুখের রচনা তাঁকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করে। জেন ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল একমাত্র ডাক্তার হলেই বোধহয় গরীব মানুষদের কাছে থেকে তাদের জন্য কাজ করা যায়। কিন্তু চার বছর বয়সে মেরুদণ্ডের যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি নুব্জ হয়ে পড়েন, তাঁর নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে পীড়িত করে। ১৮৮১ সালে অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে জেন পেনসিলভ্যানিয়ার উইমেনস মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেই বছরই মেরুদণ্ডের অপারেশনের পর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার কারণে তিনি মেডিকেল কলেজের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেও অপারগ হন। ইতিমধ্যে তাঁর বাবা দ্বিতীয়বারের জন্য বিবাহ করেছেন। নিজের অসুস্থতা, সৎমায়ের শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির কারণে শেষমেশ জেনের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে এ্যাডামসরা সপরিবারে ইলিনয় প্রদেশে ফিরে আসে। এরপর ১৮৮৩ সাল থেকে দুই বছর জেন এ্যাডামস, তাঁর সৎমায়ের সঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণ করেন। এখানেই লন্ডন শহরে থাকাকালীন সেখানকার দারিদ্রপীড়িত ইস্ট এন্ড, টয়েনবি হল প্রভৃতি জায়গাতে তিনি ঘুরে বেড়ান এবং দেখেন অক্সফোর্ড, কেম্ব্রিজ প্রভৃতি নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সেই সব দরিদ্র মানুষদের মধ্যে থেকে তাদের উন্নতিসাধনে কাজ করে চলেছে। একই সময়ে তিনি লিও তলস্তয়ের লেখা ‘মাই রিলিজিয়ন’ গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট হন এবং উপলব্ধি করেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে গেলে, তাদের জন্য কাজ করতে গেলে ডাক্তার ছাড়াও আরও অন্য অনেকরকম ভাবে সেই কাজ করা সম্ভব। লন্ডনে বস্তিবাসীদের মধ্যে বসবাস করে, তাদের সঙ্গে থেকে, বিলিত গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের এভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে প্রত্যক্ষ করেই জেন এ্যাডামসের মনে সেটলমেন্ট আন্দোলনের ধারণাটি দানা বাঁধতে শুরু করে।

 

১৮৮৯ সালে আমেরিকায় ফিরে এসে শিকাগো শহরে জনৈক চার্লস হালের কাছ থেকে একটি বাড়ি কিনে নিয়ে জেন এ্যাডামস ও তাঁর বন্ধু এলেন গেটস স্টার প্রতিষ্ঠা করেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল শিশু ও মহিলাদের স্বয়ম্ভর হয়ে উঠবার প্রতিষ্ঠান হাল হাউজ। হাল হাউজ, জেন এ্যাডামসের জীবনের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে যায়, পরবর্তীতে দুইখণ্ডে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীরও তিনি নাম দিয়েছিলেন যথাক্রমে ‘টোয়েন্টি ইয়ার্স এ্যাট হাল হাউজ’ ও ‘সেকেণ্ড টোয়েন্টি ইয়ার্স এ্যাট হাল হাউজ’। এই হাল হাউজে আবাসিক ও প্রতিবেশী অন্য মহিলারা মিলেমিশে কাজ করতেন। প্রথমে শিশুদের জন্য একটি কিন্ডারগার্টেন তৈরির মাধ্যমে হাল হাউজের কাজ শুরু হয়। ১৮৯৫ সালে তিনি আমেরিকার একজন জঞ্জাল-পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন। এই কাজের জন্য তিনি প্রদেশের বিভিন্ন গরীব মানুষদের জন্য নির্মিত আশ্রয়স্থানগুলির স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তদারকির অধিকার লাভ করেন। এই সময় তিনি জন পাওয়ার্স নামে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালান। হাল হাউজ ক্রমেই এক রূপকথার আন্দোলনের রূপান্তরিত হতে থাকে। এখানে মেয়েদের বিভিন্ন পেশাতে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়। জেন বিশ্বাস করতেন যুক্তিতে। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন সুবক্তা ও সুলেখিকাও বটে। সারা জীবনে ১১টি বই লিখেছেন তিনি, লিখেছেন অজস্র প্রবন্ধ, মতামত, সংবাদপত্রের কলাম। আজ এত বছর পার হয়ে এসে পরে আমরা জেন এ্যাডামসের কাজকেই আবারও ফিরে দেখতে চেষ্টা করছি।

 

আরেক সমাজতান্ত্রিক নারী, ফ্লোরেন্স কেলি, স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিন সন্তানকে নিয়ে এই হাল হাউজে এসেই আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তিনিই ইলিনয় প্রদেশের চিফ ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন ও আইনানুগ ভাবে মহিলাদের আটঘণ্টা কাজের সময়কে নির্দিষ্ট ভাবে বেঁধে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। হাল হাউজেরই আরেক আবাসিক, এ্যালিস হ্যামিলটন ১৮৯৩ সালে মিশিগান মেডিকেল স্কুল থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, জেনের অপূর্ণ স্বপ্নকেই যেন বা তিনি বাস্তব করে তোলেন। পরবর্তীতে তিনি আশেপাশের দরিদ্র, সাধারণ নাগরিকদের ভিতরে যক্ষ্মা ও টাইফয়েডের বিস্তার ও সীসার বিষক্রিয়াজনিত অন্যান্য অসুখের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। ১৮৯৬ সালে জেন এ্যাডামস রাশিয়া যান এবং তাঁর আদর্শ লিও তলস্তয়কে চাক্ষুষ দেখার সৌভাগ্য লাভ করেন। একটি কথা বলতে ভুলে গিয়েছি, প্রবন্ধের একেবারে শুরুতে বিশ্বযুদ্ধদীর্ণ ইউরোপে শহরে শহরে নিজের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি জন লিনের কবর খুঁজে চলা জেন এ্যাডামসের সফরসঙ্গিনীও ছিলেন সেই এ্যালিস হ্যামিলটন। হাল হাউজ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর আত্মবিশ্বাসের নিরিখে আদতেই যেন এক প্রজন্ম হয়ে উঠতে পেরেছিল।

 

শেষ জীবনে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক আন্দোলনেও নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন জেন। ১৮৯৮ সালে ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জকে বলপূর্বক আমেরিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি সরব হয়েছিলেন। তলস্তয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত ও প্রচারক জেন, ছিলেন আদ্যন্ত শান্তিকামী ও যুদ্ধবিরোধী একজন মানুষ। তাই ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরে তিনি সর্বোতভাবে তার বিরোধিতা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনকে চিঠি লিখেও নিজের বিরোধিতার কথা জানাতে তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়াতে তাঁকে রীতিমতো ব্যঙ্গের শিকার হতে হয়। উগ্র জাতীয়বাদের নেশায় উন্মত্ত আমেরিকার প্রশাসক ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন জনগণ জেন এ্যাডামসের কথায় কর্ণপাত করেনি। দুইলক্ষ নারীর স্বাক্ষর সমেত উড্রো উইলসনের কাছে জেন এ্যাডামস যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেও, সেই চিঠিরও কোনও প্রতিফল দেখা যায়নি। যদিও পরবর্তীতে শান্তি আন্দোলনেরই অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন জেন এ্যাডামস। মৃত্যুর সময়ে তিনিই ছিলেন আমেরিকার সর্বাধিক পরিচিত মহিলা, সর্বাধিক পরিচিত নারী আন্দোলনকর্মী। ১৯৩১ সালে যুদ্ধ বিরোধিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য জেন এ্যাডামস প্রথম মার্কিনি মহিলা হিসেবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে, সেই যুদ্ধবিরতিরই অন্যতম অংশ ভার্সাই চুক্তির বিষয়েও তিনি সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই চুক্তির ভিতরেই পরবর্তী যুদ্ধের বীজ লুক্কায়িত রয়েছে। নিজের ভবিষ্যদবাণীকে তিনি সত্য প্রমাণিত হতে দেখে যাননি। এইটুকুই সান্ত্বনা বোধহয় তাঁর ...

 

একদিকে হাল হাউজের মতো একটি সার্বিক নারীকেন্দ্রিক সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া, অন্যদিকে তুখোড় বক্তা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে সুলেখিকা, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ, জেন এ্যাডামসের বহুমুখী জীবনের সবটুকুকে সামান্য একটি প্রবন্ধের পরিসরে ধরতে চেষ্টা করাটাও বাতুলতা বলে মনে হয়। আমরা কেবল দেখতে চেষ্টা করি সেই মানুষকে, যিনি তাঁর প্রথম বইয়ের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও সামাজিক নীতিবোধকে। বলেছিলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি তত্ত্বমাত্র নয়, গণতন্ত্র আদতে এক যাপনপদ্ধতি। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে স্রেফ এইটুকুর জন্যই বোধহয় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি মানুষকে মানুষ হতে শিখিয়েছিলেন, নারীকে দিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাস, আর শাশ্বত শান্তির বাণীতে উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলেন মনুষ্যত্ব। জন্মমাসে তাই সেই জেন এ্যাডামসকেই আমরা স্মরণ করতে চেয়েছিলাম।

 

১৯২৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এ্যাডামস। সেই শরীর আর কখনই পুরোপুরি সারেনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ১৯৩১ সালে অসলো শহরে নোবেল পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। ১৯৩৫ সালে তাঁর একটি অপারেশনের পর ডাক্তারেরা সন্দেহ করেন ক্যানসার। সেই সন্দেহ নিরাময়ের আগেই, দিন তিনেকের ভিতরেই ১৯৩৫ সালের ২১শে মে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন জেন এ্যাডামস। উত্তরকালের জন্য তিনি রেখে যান তাঁর জীবন ও আন্দোলনের উত্তরাধিকার।

লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার

ছবি : সংগৃহীত

0 Comments

Post Comment