ছেলের দুধ কেনারও টাকা নেই

  • 04 June, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 992 view(s)
  • লিখেছেন : সিউ প্রতিবেদক
পশ্চিম মেদিনীপুরের পম্পা মান্না ও তাঁর স্বামী দিল্লিতে চালাতেন জরিশিল্পের কারখানা। করোনাকালের লকডাউনে সব বন্ধ। প্রকট আর্থিক চাপ। পড়েছেন মহাবিপদে।

জরিশিল্পী পম্পা মান্না বুঝতে পারছেন না দিল্লির মতো শহরে আর কতদিন টিকতে পারবেন। লকডাউন তাঁর পরিবারকে পথে বসিয়েছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে জরিশিল্পের কারখানা গড়েছিলেন শাহাপুর গেটে। ২৪ মার্চ লকডাউন ঘোষণার পর কারখানায় তালা পড়েছে। হজকাসে ভগ্নী নিবেদিতা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে ছেলে প্রীতম মান্না। বাচ্চার অনলাইন ক্লাস চলছে। দুটো পরীক্ষাও হল লকডাউন পর্বে। প্রীতমকে পরীক্ষায় বসানো সম্ভব হয়নি। পম্পা মান্না বললেন, ‘ছেলের দুধ কেনার টাকা নেই। ঠিকমতো খাওয়াতেও পারছি না। ছেলেটা রোগা হয়ে গেল দু মাসেই। ওর দিকে তাকালেই চোখে জল চলে আসে। এদিকে স্কুল থেকে মেসেজ আসছে অনলাইনে পরীক্ষার টাকা জমা করতে। কোথা থেকে দেবো? জানি না ছেলেকে ছাড়িয়ে দেবে কি না। খুব আতঙ্কে দিন  কাটাচ্ছি।’

বিয়ের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের দেবরা থানার চকমধু গ্রাম থেকে দিল্লি যান পম্পা মান্না। স্বামী-স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টায় শাহাপুর গেটে জরির কারখানা চালান। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেই সাতজন জরিশিল্পীকেও নিয়ে গিয়েছিলেন। বললেন, ‘লকডাউন আমাদের জীবনকে তছনছ করে দিল। বাড়িওয়ালা ভাড়া চাইছেন। কারখানা আর বসত ঘর মিলে কুড়ি হাজার মতো। কিন্তু আমাদের এখন কিছুই নেই।  বাড়িওয়ালাকে অনুরোধ করে আস্তানাটা টিকিয়ে রেখেছি। গ্রামে ফিরে গিয়েই বা  কি করব?  সেখানেও না আছে নিজস্ব ঘর, না আছে জমি। শুধু আছে বলতে খাটার জন্য দুটো হাত। এটা সম্বল করেই দিল্লি এসেছি। দেশে এখন কে কাজ দেবে?’  

লকডাউনে আটকে গিয়েছিলেন তাঁর কারখানার জরিশিল্পীরা। দুটো মাস তাঁদের খাবার দিয়েছেন। মাইনে দিতে পারেননি। জমানো টাকা শেষ। শ্রমিক ট্রেন চালু হওয়ার পর তাঁদের বাড়ি পাঠালেন। সেই যাওয়াটাও তাঁদের স্বস্তির হয়নি। খড়গপুর স্টেশনে ট্রেন  থেকে নামতে হয়। ওখান থেকে বাড়ি ফেরাতে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে নিয়েছে মারুতি ভ্যানগুলো। হাতে টাকা ছিল না। খুব দুর্ভোগ সইয়ে তাঁরা বাড়ি পৌঁছোলেন। এখন তিনটে মানুষের খাবার যোগাড় করার চিন্তায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা বাধছে ঘনঘন। না আছে খাবার, না পারছে মেজাজকে সংযমে রাখতে। বাবা-মায়ের ঝামেলা দেখে ছোট্ট প্রীতম আরও মনমরা হয়ে থাকছে। চেষ্টা করে কোনো কাজই জোটাতে পারেননি। ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতেও সংকোচ। সব ছাপিয়ে বারবার মায়ের আর্তনাদ আর আকুতি বাচ্চাটার ভবিষ্যত ঘিরে, ‘ছেলেটাকে আমার বাঁচান  আপনারা। ওর পড়াটা যেন বন্ধ না হয়ে যায়।’

 

ছবি ঃ প্রতীকী

0 Comments

Post Comment