‌যুগান্তরের বজ্রনির্ঘোষ­ : পদ্মরাগ

রোকেয়া যখন ১৯০২ সালে পদ্মরাগ লিখেছিলেন—এমন স্পষ্টভাবে মেয়েদের আত্মনির্ভর, পুরুষের প্রভুত্বমুক্ত স্বাধীন অস্তিত্বের কথা আর কোনো লেখক তখনও বলেননি। ১৯২৪ সালেও, যখন পদ্মরাগ প্রকাশিত হল তখনকার সাহিত্যে এ ধরনের লেখালেখি কমই দেখা গেছে। অতএব বলা যেতে পারে, রোকেয়ার পদ্মরাগ–ই বাংলা সাহিত্যে প্রথম নারীবাদী উপন্যাস।

by উত্তরা চক্রবর্তী | 06 December, 2020 | 1200 | Tags : rokeya padmarag novel women empowerment

শাপিতপুরুষ (দ্বিতীয় কিস্তি)

পূর্বকথা- সমাজ-ধর্মে বিপরীত দুই তরুণ-তরুণী রিমা আর সুমনের মনোরাজ্যে প্রচণ্ড ঝড় উঠেছে। ‘আমি মানুষের পৃথিবী চাই, মানুষের উপরে আর কিছু মেনে নিতে আমি অস্বীকৃতি জানাই' প্রফেসর চৌধুরীর এই মন্ত্র ওদের মনে। প্রফেসর চৌধুরীর চেম্বারে ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর সমস্ত শক্তি পায়ের উপরে চালান করে জোরে হাঁটে রিমা। ঘরে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত একবারও পেছনে তাকায়নি। সুমনের ধাবমান পদশব্দ যেন ওকে আততায়ীর মতো তাড়া করে।

by চন্দন আনোয়ার | 28 November, 2021 | 370 | Tags : Chondon Anwar Shapita Purush novel bengali society couple

শাপিতপুরুষ (তৃতীয় কিস্তি)

পূর্বকথা : দ্বিধা-ভয় এবং অমীমাসিংত প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ায় সুমন-রিমার প্রেম ও বিশ্বাস। আমি অন্ধ লোভে পড়েছি, আমি কি পথ হারিয়ে ফেলেছি প্রভূত প্রশ্নবাণে জর্জরিত রিমার আত্মজিজ্ঞাসা, আমি কি তাহলে সুমনের প্রেমে পড়েছি? এরই নাম কি প্রেম? এখান থেকে ফেরার পথ নেই? এরপর কী? বিয়ে? সর্বনাশ! কোন সর্বনাশা পথে হাঁটছি আমি! ...জ্বরের প্রকোপ বেড়ে গেল কিনা, অস্পষ্ট স্বরে মাকে ডাকে রিমা, মা, মাগো, তোমার মেয়ে দেখো সর্বনাশা প্রেমে পড়েছে? তুমিই পারো বাঁচাতে।

by চন্দন আনোয়ার | 05 December, 2021 | 284 | Tags : novel bengali society movement chondon

শাপিতপুরুষ (চতুর্থ কিস্তি)

পূর্বকথা- রিমার বাবা শুনলেন তার মেয়ের বিয়ের খবর, সেদিন কোনো বাড়তি প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়নি তার মধ্যে। তাতেই বোঝা গেল তীরটা বিঁধেছে কতটা গভীরে। মেয়ের মা কিন্তু কাঁদল ঘরদোর ফাটিয়ে। ভাইটা ঘর থেকে বের হয়নি। আশেপাশের গ্রাম রাষ্ট্র হয়েছে বিয়ের কথা। বাড়িতে হিড়িক পড়েছিল মেয়ের বাবাকে দেখতে। যে মেয়ে পরকাল বিশ্বাস করে না, আল্লাহ রসুল মানে না, কলমা না পড়েই বিয়ে করেছে, সেই মেয়ের বাপ তো গাঁয়েগঞ্জে ভুরি ভুরি মেলে না। মুসলিম মেয়ের হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করার কারণে নানান সামাজিক প্রতিক্রিয়া শুরু হলো।

by চন্দন আনোয়ার | 19 December, 2021 | 329 | Tags : shapito purush novel bengali patriarchy couple society

শাপিতপুরুষ (পঞ্চম কিস্তি)

পূর্বকথা- রিমা সুমনের নিশ্বাসের কাছাকাছি পৌঁছায়। বুকের উপরে মাথা ফেলে। দুই হাতে জাপটে ধরে সুমনকে। তোমাকে কথা দিয়েছি সুমন, তুমি বিশ্বাস রাখ, এবার আমি মা হব। এতকাল তোমাকে ঠকিয়েছি, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ঠকেছি আমি। সুমনের লোমশ বুকে উটপাখির মতো মুখগুঁজে বিলাপ করে রিমা। এখানেই আমার জীবন-মরণ, এখানেই আমি জমা রেখেছি আমার সমস্ত বিশ্বাস। আমি দিব্যি কেটে বলছি, এবার আমি মা হব সুমন, এবার আমি মা হব...

by চন্দন আনোয়ার | 26 December, 2021 | 263 | Tags : chandon anwar novel bengali unhappy couple

শাপিত পুরুষ (ষষ্ঠ কিস্তি)

পূর্বকথা- কট করে লাইন কেটে দিল সুমন। এই প্রথম আকারে ইঙ্গিতে হলেও অয়নকে বুঝিয়ে দিয়েছে, রিমার সাথে মাখো মাখো ভাব ওর না পছন্দ। এবার যদি রিমা... বন্ধু বলে ছেড়ে দেবে না। প্রয়োজনে খুন তিনটাই হবে। আগে মাগিকে, তারপর তোকে, শেষে আমি। শালা মির জাফর! ষড়যন্ত্র শুরু করেছিস। ষড়যন্ত্রের গুয়ায় এবার বাঁশ ঢোকাবো। দেখি আগে, কোথাকার জল কোথায় যায়। যদি বন্ধু তুই এবার আমার সর্বনাশ করিস, তোর সুন্দরী বউয়ের ইয়ে ধরে...ক্রোধ, প্রতিহিংসা, ঘৃণার উত্তেজনায় সুমনের শরীরের লোম খাড়া হয়ে ওঠে সজারুর মতো।

by চন্দন আনোয়ার | 02 January, 2022 | 361 | Tags : novel social mental critical life bengali

শাপিতপুরুষ (সপ্তম কিস্তি)

পূর্ববকথা- বর্তমান জীবনকে দাবড় মেরে সরিয়ে দিয়ে ঝেঁকে বসেছে সুমনের অতীতচারী মন। সেই ক্যাম্পাস, সেই রিমা, সেই ভবন, আমতলা সব যেন চলমান ছবি চোখের সামনে। যতদূর হাতড়ায় তাতে চৈতির কোন জায়গা আছে বলে মনে হয় না। এক সন্ধ্যার পাগলামি ছিল স্রেফ। তবে বুকের পাঁজরে এতটা আলোড়ন কেন! চৈতির ছেলেটার কথা মনে পড়ে। এমন একটা ডানপিটে শিশুর লোভ মনের ভেতরে ঘাপটি মেরে আছে। বড় শ্বাস ফেলে। অনুর্বর পতিত জমির মতো কেটে গেল জীবনের এতটা বছর!  

by চন্দন আনোয়ার | 09 January, 2022 | 267 | Tags : sapito purush novel bengali sumon rima

শাপিতপুরুষ (অষ্টম কিস্তি)

পূর্বকথা- সকালের শান্ত স্নিগ্ধ বাতাসে রিমার শরীর সিক্ত হয়। ক্ষতগুলি কিছুটা শীতল হয়েছে। বাথরুমের লুকিং গ্লাসে নিজের মুখে নখের আঁচড় দেখে পাগলের মতো কাঁদে কিছুক্ষণ। ত্রস্ত হাতে এলোপাতাড়ি পানি ছিটায় ক্ষতগুলোতে। কী বিশ্রী একটা গন্ধ সারা শরীরে! রিমার মধ্যে ভিন্ন প্রশ্ন জাগে। উত্তেজক কোন ড্রাগ নেয় না তো সুমন? কোন সুস্থ মানুষ এতটা পাশবিক হতে পারে কী করে? তলপেটে ভেজা হাতের পরশ বোলায়। ভেতরের অন্ধকার ঘরে সুমনের যে সত্তা ক্রমেই জমাট বাঁধছে সে কি টের পেয়েছে বাবার এই হিংস্রতা? 

by চন্দন আনোয়ার | 16 January, 2022 | 322 | Tags : novel bengali psychological critical

শাপিতপুরুষ (নবম কিস্তি)

পূর্বকথা- ফোন বেজে ওঠে ফের। ভয়ে ভয়ে কানে নিল রিমা। সরি দোস্ত, অয়নের নম্বরে কল করতে গিয়ে ভুল করে তোমার নম্বরে...। আদরের মুহূর্তে রিমাকে দোস্ত বলেই সম্বোধন করে সুমন। ইদানিং অয়নের সাথে ফোনে আমার এমন খুনসুটি হয়। ও আবার তোমার পক্ষের উকিল কি না। সুমন হাসে। হুঁ শব্দ করে লাইন কেটে দিল রিমা। অন্ধকার কাঁপিয়ে প্রায় বিলাপ করে মিনিট পাঁচেক কাঁদল রিমা। বাতি জ্বালাবার তাগিদ অনুভব করে না। যে জীবনে অনন্ত অন্ধকারের হাতছানি, তার এ আলোতে কী হবে! অন্ধকারেই মুখ লুকিয়ে পড়ে থাকল।   

by চন্দন আনোয়ার | 23 January, 2022 | 413 | Tags : novel bengali emergency period bangladesh

শাপিতপুরুষ (দশম কিস্তি)

পূর্বকথা- রিমা ঘামছে ভীষণ। দেশটা যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে শেষমেষ? কী ভয়ানক ব্যাপার! পৃথিবীর কোনও স্বাধীন দেশে এমন হয় নাকি? এত তাজা প্রাণ, এত নারী সম্ভ্রম বিলিয়ে, সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে যে দেশটির জন্ম, সে দেশের এ কী হাল! দেশের মুক্তিযোদ্ধারা তো সব মরে যায়নি এখনো। তারা কি ভুলে গেছে অস্ত্র চালাতে? কেন তারা নীরব? একাত্তরের চাইতে দেশের মানুষ আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে মুখিয়ে আছে যুদ্ধে নামতে? রিমার এসব ভাবনার মধ্যেই বুক কাঁপিয়ে বেজে ওঠে মোবাইল।

by চন্দন আনোয়ার | 30 January, 2022 | 241 | Tags : novel bengali hindu muslim marriage love triangle

শাপিতপুরুষ (একাদশ কিস্তি)

পূর্বকথা- চৈতির ভেতরে ভয় বরফ হয়ে ওঠে। চৈতি কী বলবে, কী করবে বুদ্ধিতে কুল পাচ্ছে না। জীবিত এক মানুষ নিজেই বলছে সে খুন হবে! সেটা আবার নিজের স্ত্রী-বন্ধুর হাতে, এ কি বিশ্বাস করা যায়? এত নির্লিপ্তভাবে কেউ কখনও কাউকে নিজের আসন্ন মৃত্যুর সংবাদ দিতে পারে নাকি? অবিশ্বাস-বিশ্বাসের দ্বন্দ্বে চৈতির মাথার ভেতরে বিপরীত চিন্তার কুরুক্ষেত্র চলছে। সুমনের একটি কথা মুহূর্তেই চৈতিকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল অন্য দিগন্তে।

by চন্দন আনোয়ার | 06 February, 2022 | 259 | Tags : novel bengali couple psychological problem

শাপিতপুরুষ (দ্বাদশ কিস্তি)

পূর্বকথা- গভীর রাত অবধি রিমা অস্থির সময় কাটায়। গলা শুকিয়ে কাঠ। গ্লাসের পর গ্লাস পানি চলছে, তৃষ্ণা বাড়ছে বৈ ছিটেফোঁটাও কমছে না। দু’বার করে ড্রইংরুমে গিয়েও কোন কথা না বলেই ফিরে আসে। সুমন রিমোট টেপায় মত্ত। ইদানিং কোন অনুষ্ঠান দেখে না। রিমোট টেপে হরদম। রিমা এখন ভেতর-বাইরে সম্পূর্ণ নিঃসহায়। মরণ যেন দুই হাত দূরে। নিশ্বাস আটকে বুকের ভেতরে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই বাইরে আসছে না। গভীর সমুদ্রে জাহাজ ডুবি মানুষের মতো গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে রিমা।

by চন্দন আনোয়ার | 13 February, 2022 | 236 | Tags : novel bengali triangle love problem

শাপিতপুরুষ (ত্রয়োদশ কিস্তি)

পূর্বকথা- র্কিকর্তব্যবিমূঢ় রিমা কিছুক্ষণ বসেই রইল। কোন কথা না বলে নিঃশব্দে উঠে রান্নাঘরে গেল। কেক কাটার চাকু হাতে নিয়ে ফের বিছানায় গেল। চাকুটি লুকিয়ে রাখে বালিশের তলায়। অন্তত আত্মরক্ষার চেষ্টা তো করা যাবে। বিছানায় সাপকুণ্ডলি হয়ে শুয়েছে। দম আটকে আসছে। নিশ্বাস ফেলছে ছোট্ট করে। মনে হয়, এখনি ছুটে এসে গলা টিপে ধরবে সুমন। গলায় সুমনের অদৃশ্য আঙুলের ফাঁস লেগে-ই আছে।

by চন্দন আনোয়ার | 20 February, 2022 | 217 | Tags : shapitopurush novel psychological thirteen parbo

শাপিতপুরুষ (চতুর্দশ কিস্তি)

পায়ের আঙুল টিপে টিপে সুমন প্রবেশ করে বাবার ঘরে। বাবার শোবার জায়গাটাতে ছোট ছোট গাছ গজিয়েছে। সুমন হন্যে হয়ে বাবার কোন স্মৃতি খোঁজে। একটা কিছু পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। কিছুই চোখে না পড়ায় যারপরনাই হতাশ সুমন। ঘর হতে বেরুবার মুহূর্তে উপরে চোখ গেল। ছাদের জংধরা একটি রডে সুতোয় বাঁধা কিছু একটা ঝুলছে। রড থেকে নামিয়ে দেখে একটা ছবি। ছবিটি একটি পূর্ণ অবয়বের যুবতীর ছবি। কে এই ছবির যুবতী? চিনে উঠতে পারে না। যতদূর মনে পড়ে, মায়ের চেহারার সাথে ছিটেফোঁটা সাদৃশ্যও নেই ছবির যুবতীর।

by চন্দন আনোয়ার | 27 February, 2022 | 315 | Tags : shapita purush fourteen parbo novel bengali

শাপিতপুরুষ (ষোড়শ কিস্তি)

পূর্বকথা- কট করে লাইন কেটে দিল সুমন। লক করে দিল মোবাইল। মেঝেতে ছড়ানো ছিটানো চাকা চাকা রক্তের দিকে তাকিয়ে ভয়ে আঁতকে ওঠে সুমন। শরীরের লোম সজারুর কাঁটার মতো খাড়া হয়ে উঠেছে। এসব আমার রক্ত! কিন্তু এত রক্ত কপাল ফেটে বের হল কেন? লুকিং গ্লাসের সামনে দাঁড়াল। দুই হাতে মুখ ঢাকে। সমগ্র শরীরে রক্তের দাগ!

by চন্দন আনোয়ার | 13 March, 2022 | 341 | Tags : sapita purush novel sixteen

শাপিতপুরুষ (সপ্তদশ কিস্তি)

পূর্বকথা--সুমনের ভেতর হতে যে কান্নার ঢেকুর উঠছে তাতে মোবাইলে শাঁ শাঁ শব্দ হচ্ছে। নাক টেনেটেনে দম ফেলে ফেলে সুমন বলছে, অয়ন, তোর পায়ে ধরি, আমি তো আর বাঁচবো না। এক নজর দেখে যেতে চাই আমার বাবুকে। ওকে তুই হত্যা করিস না! ওকে নিয়ে আফ্রিকার জঙ্গলে, না হয় এমন দেশে চলে যাবো যে দেশে ওর পরিচয় জানবে না। ওকে কেউ ঘৃণা ছুঁড়বে না। এ কথাগুলো বলেই অসহায়ের মতো হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করে সুমন।

by চন্দন আনোয়ার | 20 March, 2022 | 169 | Tags : sapita purush novel bengali seventeen parba

শাপিতপুরুষ (অষ্টাদশ কিস্তি)

পূর্বকথা- আজ উঠি সুমনদা, পালাতে উদ্ধত হল চৈতি। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঝট করে দাঁড়িয়ে এক পা এগোতেই খপ্ করে চৈতির হাত টেনে ধরে সুমন। চোখের পলকে আছড়ে ফেলে দিল সোফায়। টানা প্রায় আধা ঘণ্টা ভয়ানক হিংস্র রমণে পিষ্ট চৈতি ছিটকে যখন রাস্তায় এসে দাঁড়াল তখন টের পেল বুকের মাংসের স্তুপের উপরের অংশ প্রায় ছিন্ন করে ফেলেছে হায়েনা।

by চন্দন আনোয়ার | 27 March, 2022 | 202 | Tags : shapitapurush novel bengali eighteen parba

শাপিতপুরুষ (ঊনবিংশ কিস্তি)

পূর্বকথা- রিক্সা কখন যে বাজারের জিরোপয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে টের পায়নি অয়ন। বড় মসজিদ থেকে দক্ষিণের গলি ধরে পায়ে হেঁটে এগোয়। মন্দির থেকে কিছু দূরে চারতলা বাড়ি একটি-ই। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হেলতে দুলতে অয়নের পেছনে পেছনে আসা ছেলেটা বাড়ির গেট দিয়ে ঢুকছে দেখে অয়ন ডাকে, বাবু, তুমি তো এ বাড়িতেই থাকো? ছেলেটি হ্যাঁসূচক মাথা নাড়ায়। তুমি কি বলতে পারো প্রফেসর সুমন গাঙ্গুলি বাইরে বের হন কি না? ছেলেটি বত্রিশ দাঁত বের করে হিহি করে হেসে দিল। সুমন স্যার তো পাগল হয়ে গেছে।

by চন্দন আনোয়ার | 04 April, 2022 | 196 | Tags : shapitapurush novel bengali nineteen

শাপিতপুরুষ (বিংশতি কিস্তি)

পূর্বকথা- সুমনের শান্ত মুখটা আধা-পাকা খোঁচা খোঁচা দাড়িতে ভরা। ঢাকায় এক সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে কথা হয়েছে। সুস্থ পরিবেশ, সার্বক্ষণিক সাহচার্য পেলে তবেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু সুমন কোথায় পাবে সুস্থ পরিবেশ? এই শহরে সুমন ভীষণ একা। কলকাতায় ওর আত্মীয় স্বজনদের খবর দিলে কেমন হয়। কিন্তু ওরা কি আমলে নেবে? ওদের জাত ধর্মে এমন করে থুতু ছিটিয়েছে সুমন। ওরা কালেভদ্রে যোগাযোগ করতে চাইলেও সুমন সাড়া দেয়নি। ওর ভেতরে খুব খেদ—যুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে পালাল কেন? আর যদি বা পালিয়ে গেল, যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরেনি কেন?

by চন্দন আনোয়ার | 10 April, 2022 | 199 | Tags : shapitapurush series tweenty novel

শাপিতপুরুষ (একবিংশ কিস্তি)

পূর্বকথা-- কমলিকা ব্যানার্জি ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। কোনমতে জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি। এক বছর বন্ধ ছিল। ফের ভার্সিটিতে যাই। সুমন আসা অবধি নিত্য রাত শফিককে ভাবি। এই শাড়ি পরে এখানে বসে রাত কাটাই। প্রাণধর্মে সুমনরা একেক জন দেবতা। সমাজ-ধর্মের সম্ভ্রম রাখেনি বলে সমাজ-ধর্ম ওদেরকে এমনভাবে নিষ্ঠুর নৃশংস কামড় বসায় তখন ওরা হারতে বাধ্য হয়। মুখে বিদ্রূপের হাসি টেনে এনে উঠে যাবার সময় দুইবার করে বাতাসে থুতু ছিটিয়ে গেল কমলিকা ব্যানার্জি।

by চন্দন আনোয়ার | 17 April, 2022 | 284 | Tags : shapitopurush novel series twenty one

শাপিতপুরুষ (দ্বাবিংশ কিস্তি)

পূর্বকথা--খুলতেই নিস্তব্ধ ঘর কাঁপিয়ে বেজে ওঠে মোবাইল। শ্যামলের কল। সুদূর কানাডা থেকে বাতাসে উড়ে আসা শ্যামলের কণ্ঠ শোনা যাবে এখনিই। স্ক্রিন কেঁপে কেঁপে অস্থির হয়ে ওঠানামা করছে শ্যামলের নাম। চৈতি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে স্ক্রিনে। বেজে বেজে বন্ধ হয়ে গেল। ভয়ের ঠাণ্ডা বাতাস শাঁ শাঁ করে বইছে চৈতির ভেতর রাজ্যে। বস্ত্রহীন নিঃস্ব শীতার্তের মতো থরথর করে কাঁপছে শরীর। হরদম বেজে বেজে বন্ধ হতে হতে আর যখন রিং বাজছে না তখন চৈতি মোবাইল হাতে নিয়ে শিশুর খেলনার মতো নাড়েচাড়ে।

by চন্দন আনোয়ার | 24 April, 2022 | 191 | Tags : shapitapurush novel bengali twenty two

শাপিতপুরুষ (ত্রয়োবিংশ এবং শেষ কিস্তি)

পূর্বকথা--শ্যামল কানাডা বেরোবার মুহূর্তে চাপা কর্কশ কণ্ঠে চৈতিকে বলে, চিরজনমের মতো দেশ ছাড়ছি। আমার সাথে তো নয়-ই, ছেলের সাথেও, কোন দুর্বল মুহূর্তে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো না। সত্যিটা জানতে পারলে ছেলে থুতু দেবে তোমার আর তোমার সন্তানের মুখে। বেহুঁশ চৈতির ভেতর থেকে উগলে আসা বমির কিছু পরিমাণ ছিটকে পড়েছে শ্যামলের শার্ট-প্যান্টে। বমির এই গন্ধ কানাডায় পৌঁছুবে। যুবতী বউ ঘরে রেখে যারা কানাড়ায় এখন, তারাও যেন বমির গন্ধ পেতে পারে শ্যামলের শরীর হতে, এ ব্যবস্থা-ই যেন করে দিল চৈতি।

by চন্দন আনোয়ার | 01 May, 2022 | 185 | Tags : shapitapurush series twenty three novel

সাহিত্যে নারীত্বের নির্মাণ (পর্ব-২)

ক্ষেত্রমোহন ও রসময়ীর আঠারো বছরের দাম্পত্যতার পরেও মাঝেমাঝে ক্ষেত্রমোহনের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য। রসময়ী যেহেতু সন্তান জন্ম দিতে পারেননি তাই সমস্ত দায় তার উপর বর্তায়! পিতৃতান্ত্রিক সমাজের চরমতম দিকটি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় হাস্যরসের মাধ্যমে ‘রসময়ীর রসিকতা’ গল্পে  তুলে ধরেছেন। হাস্যরসের পাশাপাশি বিদ্রুপাত্মকভাবে সমাজের বৈষম্যর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক।

by তামান্না | 16 August, 2022 | 119 | Tags : female characters in bengali literature patriarchal novel short story